Responsive Ads for Rent
Showing posts with label পরিবেশ. Show all posts
Showing posts with label পরিবেশ. Show all posts

Saturday, 12 October 2019

প্লাস্টিকের সর্বব্যাপী আগ্রাসন রুখতে উদ্যোগ নিতে হবে।

আফতাব চৌধুরী | প্রকাশের সময় : ৬ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম


রান্নঘরের তেলের বোতল, পানির বোতল, মগ, বালতি, বিস্কুটের প্যাকেট, চায়ের প্যাকেট, মশলার প্যাকেট থেকে শুরু করে চেয়ার টেবিল, টুল, টেবিল, ঢাকনা, তালা, গ্লাস, বাটি, চামচ, টিফিন বক্স, ঘরের দরজা-জানালা, ইলিকট্রিক পাখা, ছাতারবাট, গায়ের বর্ষাতি, পায়ের চপ্পল, জুতো গাড়িতে বসার সিটের স্পঞ্জ, ফোম, ঢাকনা, কোথায় নেই প্লাস্টিক। আছে চশমার ফ্রেমে, কলমের শরীরে, কম্পিউটারে , ল্যাপটপে, শার্ট-পেন্টের বোতামে, চেনে, কোমরের বেল্টে, ঘড়ির বেল্টে, চিরুনিতে, হাতের স্টিকে, ঔষুধের প্যাকেটে, ঔষুধের বোতলে, ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জে, ছোট বড় পানির পাইপে।
বাংলাদেশ তো বটেই, বিশ্বময় ছড়িয়ে আছে প্লাস্টিক সামগ্রী বিভিন্ন আকৃতিতে, বিভিন্ন প্রকৃতিতে। প্রতি বছর ত্রিশ কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরী হচ্ছে পৃথিবীতে। এক হিসেবে দেখো গেছে, গত এক দশকে বিশ্বে যত প্লাস্টিক দ্রব্য তৈরি হয়েছে, তার আগের একশো বছরেও তা হয়নি।
প্লাস্টিক পণ্য ওজনে হালকা, বহনে সহজ, প্রয়োজনে সহজেই যত্রতত্র নিয়ে ব্যবহার করা যায়, দামেও সস্তা। পলিথিনের একটি ছোট্ট প্যাকেট ভাঁজ করে বুক পকেটে পুরে সাহেব সেজে বাজারে গিয়ে দুই-তিন কেজি ওজনের শাক-সবজি বা মালপত্র নিয়ে সহজেই বাড়ি ফেরা যায়। এইভাবে হাজার রকমের সুবিধা রয়েছে প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহারে। তাই এই যুগকে প্লাস্টি যুগ বললে নিশ্চয়ই বেশি বলা হবে না। অবশ্য ইতিহাসের লৌহ যুগ বা তা¤্রযুগের মত প্লাস্টিক যুগ কিন্তু মানবসভ্যতার অগ্রগতির নিশান উড়িয়ে যাচ্ছে না মোটেই বরং বিপরীত কাজটি করে যাচ্ছে অহরহ।
প্লাস্টিক শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ ‘প্লাস্টিকস’, থেকে। প্লাস্টিকস-এর অর্থ ছাঁচে ফেলা বস্তু। সহজ করে বলা যায়, ছাঁচে ফেলে ইচ্ছামতো আকৃতি দিয়ে বানানো বস্তু। আরও সহজ করে হয়তো বলা যাবে যে, বস্তুকে ছাঁচে ফেলে ইচ্ছামতো আকৃতি দিয়ে পছন্দের দ্রব্যটি বানিয়ে নেওয়া। উপরে উল্লেখিত দ্রব্যসামগ্রীর প্রতি একটু মনোযোগ দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেব।
রাসায়নিক বিচারে প্লাস্টিক একটি পলিমার। পলি শব্দের অর্থ বহু, মার শব্দের অর্থ একক। অর্থাৎ কোনো বস্তুর একককে রাসায়নিকভাবে বহু সংখ্যায় যুক্ত করে নিজে তাকে বড় আকার দেওয়া। আবার একটি মাত্র বস্তুর একক ব্যবহার করে কিন্তু প্লাস্টিকের যাবতীয় দ্রব্য তৈরি হচ্ছে না। অনেকগুলো বস্তুর একক ভিন্ন ভিন্ন দ্রব্যের প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হচ্ছে। এইসব বস্তুর মধ্যে আছে ইথলিন, প্রোপাইলিন, বিউটেন, স্টাইরিন ইত্যাদি। কী বস্তুটি বানানো হবে, সেই বিচারেই ববহৃত বস্তু নির্বাচন করা হয়। আবার বস্তুটির সাথে মনমতো রং মিশিয়ে বানানো বস্তুটির রং দেওয়া হয়।
প্লাস্টিক মূলত খনিজ তেল, অর্থাৎ পেট্রোলিয়াম থেকে প্রস্তুত করা একটি বস্তু। যাঁদের বয়স পঞ্চাশ-ষাট বছর বা তার থেকে বেশি, তাঁরা নিশ্চয়ই মনে করতে পারবেন, তাঁদের ছোটবেলায় প্লাস্টিক সামগ্রীর এমন ছড়াছড়ি ছিল না কোথাও। গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর মাটির নিচে প্রকান্ড সব খনিজ তেলের ভান্ডার আবিষ্কৃত হওয়ার পর থেকেই প্লাস্টিকের তৈরি সামগ্রী বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে।
খনিজ গ্যাস থেকেও প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুত করা হয়। আবার একশো বছর আগেও প্লাস্টিকের দ্রব্য প্রস্তুত করা হত। কিন্তু তার পরিমাণ ছিল নিতান্তই স্বল্প। সেই পরিমাণ ধর্তব্যের মধ্যে ছিল না। কিন্তু এখন গোটা চেহারাটাই পালটে গেছে। একটি হিসাবে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত এক হাজার কোটি মেট্রিক টনেরও বেশি প্লাস্টিক দ্রব্য রয়েছে পৃথিবীতে। ব্যবহারের পরে এসব সামগ্রীর প্রায় সাড়ে ছ’শো কোটি মেট্রিক টন বর্জ্য হিসাবে ছড়িয়ে আাছে কৃষিক্ষেত্রে, রাস্তার পাশে, নালা-নর্দমায়, খাল-বিলে,নদ-নদীতে,সাগরে-মহাসাগরে। এমনকি, হিমালয় পর্বতের সর্বোচ্চ চূড়া এভারেস্ট শৃঙ্গেও। প্লাস্টিক কিন্তু পচে না বা সহজে নষ্ট হয় না। শত শত বছর, এমনকি হাজার বছরেরও বেশি সময় অবিকৃত থেকে যায়। আবার প্লাস্টিক পোড়ালে প্লাস্টিক থেকে বিষাক্ত কিছু গ্যাস ছড়িয়ে পড়ে চারিদিকে । এইসব গ্যাসের মধ্যে আছে ডাই-অক্সিন, হাইড্রোজেন ক্লোরাইড ইত্যাদি। এইসব গ্যাস ক্যানসার রোগ সৃষ্টিতে বা এই রোগের বৃদ্ধিতে সহায়কের কাজ করে। আবার যেসব দ্রব্যের একক থেকে বিভিন্ন প্রকারের প্লাস্টিক দ্রব্য তৈরি হয়, সেইসব দ্রব্যও ক্যানসার রোগ সৃষ্টিতে বা ওই রোগ বৃদ্ধিতে সহায়কের কাজ করে। তাই প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি কোন আধারে খাবার বস্তু রাখা একেবারেই ঠিক নয়।
যেসব প্লাস্টিক দ্রব্য জলে, স্থলে বর্জ্য হিসাবে ছড়িয়ে আছে, সেইসব বর্জ্য থেকেও বিষাক্ত উপাদান ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে। অথচ বিশ্বে এখন কোটি কোটি মেট্রিক টন প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরি হচ্ছে। ব্যবহারের পর তার বৃহৎ অংশই ছড়িয়ে পড়ছে বিশ্বের সর্বত্র। অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন যে হারে প্লাস্টিক বর্জ্য সমুদ্রের পানিতে ফেলা হচ্ছে, এই হার বজায় থাকলে আগামী পঁচিশ তিরিশ বছরে তার সংখ্যা সমুদ্রের জলজ প্রাণীর সংখ্যা থেকে বেশি হয়ে যাবে।স্থলভাগেও প্লাস্টিক বর্জ্যরে পরিমাণ দিন দিন বৃৃদ্ধি পাচ্ছে। কি ভয়ানক পরিস্থিতি তৈরি করে যাচ্ছি আমরা, বুদ্ধিমান মানুষেরা।
গঠনগতভাবে প্লাস্টিক পচে না বা নষ্ট হয়ে যায় না। কিন্তু দীর্ঘদিন রৌদ্র বা বৃষ্টিতে থাকলে, বিশেষ করে সূর্যদেহ থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে প্লাস্টিক কিন্তু ভেঙে টুকরো টুকরো হয়ে যায়। এইসব টুকরো ছোট থেকে বড় সব মাপেরই হয়। যেসব টুকরো আকারে পাঁচ মিলিমিটার থেকে ছোট,সেইসব টুকরোকে মাইক্রো প্লাস্টিক বলা হয়। মাইক্রো প্লাস্টিকের একটি ভাগ আকারে এতই ছোট যে, খালি চোখে তাদের দেখাই যায় না। এইসব অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিকের টুকরো বিভিন্ন উপায়ে খাদ্যশৃঙ্খলে ও পানীয় জলে মিশে যায়। মাইক্রো প্লাস্টিকের উপস্থিতি বোতলবন্দি মিনারেল ওয়াটারেও পাওয়া যায়। এ এক বিপজ্জনক অবস্থা।আগেই বলা হয়েছে, প্লাস্টিক ক্যানসার রোগ সৃষ্টিতে বা এই রোগ বৃদ্ধিতে আরো সহায়ক হয়ে ওঠে। আরও কিছু রোগ সৃষ্টিতে বা বৃদ্ধিতেও প্লাস্টিকের ভূমিকা রয়েছে। শুধু মানুষের ক্ষেত্রেই নয়, স্থলজ ও জলজ সব প্রাণীর ক্ষেত্রেই তা সমানভাবে প্রযোজ্য। এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো উপায় কিন্তু আজও পাওয়া যায়নি। আবার জলজ অনেক প্রাণী এসব প্লাস্টিকের টুকরো খাদ্য ভেবে ভুল করে খেয়ে নেয়। এই প্লাস্টিক কিন্তু কোনোভাবেই প্রাণীর হজম প্রক্রিয়ায় অংশ নেয় না। ফলে তা প্রাণীদের দেহে আবিকৃত অবস্থায় থেকে যায় এবং যতদিন যায়, তার পরিমাণ বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফল হয় মারাত্মক। অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তিমি বা ওই ধরনের বড় জলজ প্রাণী শুধু প্লাস্টিক, মাইক্রো প্লাস্টিকই নয়, ম্যাক্রো প্লাস্টিক বা আকারে পাঁচ মিলিগ্রাম থেকে শুরু করে অনেক বড় মাপের হয়, খাদ্য ভেবে ভুল করে খেয়ে নেয়। ফলে একই পরিণতি ঘটে তাদের ক্ষেত্রেও।এমন ও দেখা গেছে প্লাস্টিক খেয়ে মৃত তিমি বা ওই জাতীয় বড় জলজ প্রাণীর পেটে দশ, বিশ বা তার থেকেও বেশি কেজি ওজনের প্লাস্টিক রয়েছে। আমাদের কারণে কী মর্মান্তিক পরিণতি ঘটছে ওইসব অসহায় প্রাণীদের। অন্যদিকে, ব্যবহার করা মাছ ধরা জালের যে খন্ডাংশ সমুদ্রের পানিতে অবলীলায় ফেলে দেওয়া হয়, তাতে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে, চলচ্ছক্তিহীন হয়ে তিমি, কচ্ছপ প্রভৃতি জলজ প্রাণী একইভাবে মৃত্যুবরণ করছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সমুদ্রতলে কোনো কোনো অঞ্চলে কার্পেটের মত জড়িয়ে আছে প্লাস্টিকের ছোট বড় টুকরোগুলোই। ফলে শেওলা জাতীয় ক্ষুদ্র উদ্ভিদের বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। এই শেওলা খেয়েই ছোট মাছেরা জীবনধারণ করে। আর ক্ষুদ্র মাছেদের খেয়ে বড় মাছেরা বেঁচে থাকে। ফলে মাছেদের বৃদ্ধিও বাধাগ্রস্ত হয়। মাছকে খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করে মানুষ। ফলে মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
সমুদ্রের পানির কোরাল জগৎ সৌন্দর্যের এক অপার লীলাভূমি। কোরাল জগতের মোহময় বর্ণবৈচিত্র, সৌন্দর্যপিপাসু মানুষদের মনকে সহজেই আকৃষ্ট করে। বিশ্বের উষ্ণম্ডলীয় অনেক দেশের সমুদ্রের পানিতে এই কোরাল জগৎ রয়েছে। কোরাল জগতের সৌন্দর্য উপভোগ কারার জন্য প্রতি বছর বিশ্বের হাজার হাজার পর্যটক কোরাল ক্ষেত্রগুলোতে ভিড় জমান। কোরাল জগৎ শুধু তার অপার সৌন্দর্যের জন্যই বিখ্যাত হয়ে ওঠেনি। কোরাল রিফ সমুদ্রের ঢেউ থেকে সমুদ্রোপকূলকে রক্ষা করার কাজেও সাহায্য করে। তাছাড়া কোরাল রিফ অসংখ্য জলজ প্রাণীর আবাসস্থলও বটে। তাদের জীবনচক্র কোরাল রিফকে আশ্রয় করেই গড়ে ওঠে এবং এই রিফেই পূর্ণতা লাভ করে। অন্যান্যা কিছু কারণসহ সমদ্রের পানির প্লাস্টিকও এই কোরাল জগৎকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমনকি, কোনো কোনো অঞ্চলের কোরাল শ্রেণি ইতিমধ্যে হয় ধ্বংস হয়ে গেছে, নয়তো ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছেছে। অস্ট্রেলিয়ার গ্রেট ব্যারিয়ার রিফের খ্যাতি বিশ্বময় ছড়িয়ে আছে। এই রিফও আজ ধ্বংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।
প্লাস্টিক সমুদ্র পানির বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদানের সাথে বিক্রিয়া ঘটিয়ে কিছু বিষাক্ত পদার্থ তৈরি করে। এসব বিষাক্ত পদার্থই সংবেদনশীল কোরাল প্রাণীর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আরেকটি কারণ হল, সমুদ্র পানিতে ভেসে চলা ছোট-বড় প্লাস্টিকের অসংখ্য টুকরো কোরাল শ্রেণিতে আটকা পড়ে যায়। এসব প্লাস্টিকের টুকরো দিনের পর দিন কোরালের গায়ে লেগে থাকে।
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে সম্পূর্ণ জনমানববর্জিত ছোট্ট বিন্দুর মতো একরত্তি একটি দ্বীপ হেন্ডারসন আইল্যান্ড। আয়তনে ম্যনহাটন শহরের আধা এই ছোট্ট দ্বীপটির অন্তত তিন হাজার মাইলের মধ্যে কোনো মনুষ্যবসতি নেই। অথচ, কী আশ্চর্য, হেন্ডারসন দ্বীপের তটরেখা জুড়ে ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেল ১৯ টন বর্জ্য। দ্বীপময় ছড়িয়ে আছে কম করে ৩ কোটি ৭০ লক্ষ নানা আয়তনের প্লাস্টিকের টুকরো। হিসাব করলে দাঁড়ায় প্রতি বর্গমিটারে প্রায় ৬৭২টি প্লাস্টিক বর্জ্যরে টুকরো। এই দ্বীপে এল কোথা থেকে এত প্লাস্টিক? সন্দেহ নেই, আমাদের মতো সমুদ্রনিকটতবর্তী দেশগুলো থেকেই প্লাস্টিক বর্জ্য প্রথমে এসে পৌঁছায় সমুদ্রে আর তারপর স্রোতের ঘূর্ণিপাকে ঢেউয়ের ধাক্কায় ধাক্কায়, তার ভবিতব্য হয় হেন্ডারসনের মতো একফালি দ্বীপ অথবা সমুদ্রেই তা থেকে যায় অনন্তকালের জন্য। কাচের বোতল সমুদ্রে অক্ষত থাকে, প্রায় হাজার চারেক বছর। কিন্তু কোনো কোনো প্লাস্টিকের বোতল অক্ষত থেকে যেতে পারে আদি থেকে অনন্তকাল। বিজ্ঞানীরা হিসাব করে দেখেছেন, বর্তমানে প্রতি বছর প্রায় ৮০ থেকে ৯০ লক্ষ টন প্লাস্টিকের অন্তিম আশ্রয় সমুদ্র। আর এর বড় অংশই সমুদ্রে আসে দূষিত নদীগুলোর মাধ্যমে। সমুদ্রে এসে পৌঁছানো প্লাস্টিকের দুই-তৃতীয়াংশেই বয়ে নিয়ে আসে বিশ্বের ২০টি সর্বাধিক দূষিত নদী, যার মধ্যে চীনের ইয়াংসি, ইন্দোনেশিয়ার প্যাসিগ আর আমাদের পদ্মা সমেত ১৫টি এশিয়ার। এই বিপুল পরিমাণ অক্ষয়, অভঙ্গুর প্লাস্টিকের বড়, ছোট এমনকি আনুবীক্ষণিক টুকরোর দূষণে একাধিক বিপন্ন প্রজাতিসহ প্রায় ২২৭০টি সামুদ্রিক প্রজাতি সরাসারি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খুব সম্প্রতি ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী এথেন্সকেন্দ্রিক পেলাগোজ কেটাসিয়ান রিসার্চ ইন্সটিটিউটের গবেষকরা গ্রিসের সমুদ্রে স্পার্ম হোয়েল প্রজাতির মৃত তিমিরের প্রায় প্রত্যেকের পাকস্থলীতে প্রচুর পরিমাণে প্লাস্টিক পেয়েছেন। গত জানুয়রিতেও একই ভাবে উত্তর সাগরের তীরভূমিতে এসে মারা যাওয়া ২৯টি তিমির সুরতহাল করতে গিয়ে তাদের পেটেও পাওয়া গিয়েছিল দলা পাকানো বড় বড় প্লাস্টিকের টুকরো। যেসব সামুদ্রিক মাছ আমরা খাই, তার মাধ্যমে আমাদের দেহেও সবার অলক্ষ্যে প্রতিদিন ঢুকে পড়ছে আণবীক্ষণিক প্লাস্টিক তন্ত বা মাইক্রোপ্লাস্টিক চিপস।
ইউসি ডেভিস সম্প্রতি দেখিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়া ও ক্যালেফোর্নিয়ায় মাছের বাজারে বিক্রি হওয়া মাছের অন্তত ২৫ শতাংশের দেহে পাওয়া গেছে প্লাস্টিক অবশেষ। কিন্তু শুধু সমুদ্রই নয়, কৃষিজমি থেকে পানিসেচ, এমনকি পানীয় জল পর্যন্ত আজ প্লাস্টিক দূষণের কবলে। গত বছর সেপ্টেম্বরে আমেরিকার মিনসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক কাম্পালা, দিল্লি, জাকার্তা, ইউরোপের সাতটি ও মার্কিন মুলুকের একাধিক শহর থেকে মোট ১২৯টি কলের পানির নমুনা পরীক্ষা করে ৮৩ শতাংশ নমুনাতেই প্লাস্টিকের অতিক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক তন্তর অস্তিত্বের প্রমাণ পান।
শুধু পানিভাগেই নয়, স্থলভাগেও প্লাস্টিক নানাভাবে দূষণ ছড়িয়ে যাচ্ছে দিনের পর দিন। এই দূষণের ফলে মানুষসহ স্থলজ সকল প্রাণী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষিক্ষেত্রে প্লাস্টিকের উপস্থিতি কৃষিজাত শস্যের ফলনে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। বর্ষার মরশুমে শহরাঞ্চলের নালা-নর্দমায় জমে থাকা প্লাস্টিক রাস্তায় পানি জমার কারণ হয়ে উঠছে। বর্ষব্যাপী নালা-নর্দমায়, রাস্তাঘাটে, বাড়ির আনাচে-কানাচে ফেলে রাখা প্লাস্টিকের গায়ে আটকে থাকা পানিতে মশার বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করছে। বায়ুমন্ডলেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণা ভীষণভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এইসব কণা শ্বাসক্রিয়ার সাথে জীবদেহে প্রবেশ করে জীবদেহের ক্ষতির কারণ হয়ে উঠছে।
লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

অপরিকল্পিত শিল্পায়নে পরিবেশের বিপর্যয়।

বিশ্বে এখন যেভাবে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, কলকারখানা থেকে কার্বন নিঃসরণ এবং গাছপালা ধ্বংস করে বায়ুমন্ডলে কার্বন-ডাই অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে মানবজাতির অস্তিত্বই বিপন্ন করছে; শুধু মানবজাতি নয়, সমগ্র প্রাণিকুল ও উদ্ভিদজগৎ ধ্বংস করার ব্যবস্থা করছে, তাতে দেখা যাচ্ছে, পুঁজিবাদ শুধু শ্রমিক ও শ্রমজীবী মানুষেরই শত্রু নয়, তারা হল সমগ্র জীবজগতের শত্রু। তাদের তৎপরতার ফলে শুধু শ্রমিক শোষণ নয়, মানবজাতির অস্তিত্বই বিপন্ন হয়েছে। এখন পুঁজিবাদ হয়ে দাঁড়িয়েছে সমগ্র মানবজাতির শত্রু, এমনকি পুঁজিবাদীদের নিজেদেরও শত্রু। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো উদ্বেগ পুঁজিবাদী ও সাম্রাজ্যবাদীদের নেই, ক্ষেত্রবিশেষে সেটা থাকলেও এর গুরুত্বের উপযুক্ত উপলব্ধি নেই। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫ শতাংশ কিন্তু এই যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর খনিজ জ্বালানির ২৫ শতাংশ ব্যবহার করছে এবং বায়ুমন্ডলে মোট কার্বন ডাই-অক্সাইডের ২২ শতাংশ ছাড়ছে। এদিকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর মোট জনসংখ্যা পৃথিবীর জনসংখ্যার প্রায় ৭৮ শতাংশ এবং তারা মোট জ্বালানির মাত্র ১৮ শতাংশ ব্যবহার করছে। এসব তথ্য থেকে প্রতিয়মান হয় যে, উন্নয়নশীল দেশগুলো যেসব জটিল পরিবেশগত সমস্যার সম্মুখীন তার অধিকাংশের জন্য উন্নত দেশগুলোর অতিভোগই দায়ী। বিশ্বজুড়ে উষ্ণতা বৃদ্ধির হার সমুদ্রস্তরের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে, এতে করে বাড়বে বন্যা ও সাইক্লোন। ফলে মারাত্মকভাবে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির কারণে যেসব দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। পরিবেশ দূষণের কারণে ২০১৫ সালে বাংলাদেশের বিভিন্ন শহরে ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর যতো মানুষের মৃত্যু হয় তার ২৮ শতাংশই মারা যায় পরিবেশ দূষণজনিত অসুখ বিসুখে। কিন্তু সারা বিশ্বে এ ধরনের মৃত্যুর গড় ১৬ শতাংশ। বাংলাদেশের নগরাঞ্চলে দূষণ ও পরিবেশের অবনতি হওয়ার কারণে বাংলাদেশকে অনেক মূল্য দিতে হচ্ছে। এর ফলে দেশটির ভালো প্রবৃদ্ধিও এখন হুমকির মুখে। এজন্য বিশ্বব্যাংক জলাভূমি দখল, ক্ষতিকর বর্জ্য ঠিকমত না ফেলা ইত্যাদিকে দায়ী ও তিনটি ক্ষেত্রে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। যথা- (১) পরিবেশগত অবনতির মূল্য, (২) পরিচ্ছন্ন ও টেকসই শহর এবং (৩) পরিচ্ছন্ন শিল্প প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানগুলো। এক্ষেত্রে নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। দেশে সবুজ অর্থায়ন, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির প্রসার, বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উন্নতকরণ এবং পরিবেশগত সুরক্ষার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধির উপরও গুরুতারোপ করা হয়েছে। বেশ কয়েকবছর পূর্বে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রকাশিত বিশ্বের ৯০ জন পরিবেশ বিজ্ঞানী কর্তৃক বলা হয়েছিল, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে আবহাওয়া চরম আকার ধারণ করবে, তীব্রমাত্রার সাইক্লোন হবে। ফলে খাদ্য উৎপাদন জীবিকা ও অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়বে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশই বেশি ক্ষতির শিকার হবে। ২০৫০ সালে সিডরের মতো সাইক্লোনে তিন মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। এতে প্রায় ৯৭ লাখ মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে। জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে গরিবরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বাংলাদেশে পরিবেশের অবক্ষয় ও দূষণ একটি বড় সমস্যা। উপর্যুপরি বন্যা, খড়া ও ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগ জলবায়ু ও আবহাওয়ার অস্থিরতাসহ অন্যান্য পরিবেশগত সমস্যা এখন মানুষের নিত্যদিনের। এসবের মূলে মানুষের কর্মকান্ডই প্রধানত দায়ী। যথেচ্ছা বৃক্ষ নিধন, অধিক জনসংখ্যা, দারিদ্র্য, যানবাহনের কালো ধোঁয়া, জোড়ালো শব্দের হর্ন, আবাসিক এলাকায় শিল্প কারখানা ও ইট ভাটার অবস্থান ইত্যাদি পরিবেশকে দূষিত করছে। পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কারণে জলবায়ুর পরিবর্তন হচ্ছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত এক রিপোর্ট থেকে জানা যায় চীন বিশ্বকে পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। চীনের সরকার তিব্বত অঞ্চলেই একের পর এক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ২০২০ সালে আরও বড় আকারের বাঁধ নির্মাণের ফলে চীনের এক পঞ্চমাংশ নদীতে পানির প্রবাহ কমে যাবে। অনেক নদীর পানি শুকিয়ে ছোট জলাশয়ে পরিণত হতে চলেছে। ৩৫০টি বড় হ্রদ একেবারে হারিয়ে গেছে। এর ক্ষতিকর প্রভাব চীনের সীমান্ত ছাড়িয়ে অন্যান্য অঞ্চলেও পড়ছে। চীনের এসব প্রকল্পে আন্তর্জাতিক স¤প্রদায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, হিমালয় জুড়ে ব্যাপক হারে বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে উঁচু ভূমিগুলোতে অনেক প্রজাতির প্রাণির বিলুপ্তি ঘটেছে। তিব্বতের মালভূমি এখন বিশ্বব্যাপী গড় তাপমাত্রার চেয়ে তিনগুণ বেশি উষ্ণ। এর পরিবেশগত প্রভাব এশিয়া ছাড়িয়ে অন্যান্য স্থানেও পড়ছে। বাংলাদেশও পরিবেশগত ঝুঁকির মধ্যেই আছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতি এখন হুমকির মুখে। দেশে এখনও বন্ধ হয়নি পলিথিনের ব্যবহার। নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিনের ব্যবহারের কারণে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। নিয়ন্ত্রণহীনতার সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু মানুষ নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন করে চলছে। পলিথিন ব্যবহার করে যেখানে সেখানে ফেলে দেয়া হচ্ছে। সেগুলো পানিবাহিত হয়ে ড্রেনে গিয়ে পড়ছে। ক্রমাগতভাবে ড্রেন বন্ধ হয়ে এক সময় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে মারাত্মকভাবে। বায়ুদূষণে ফিটনেসবিহীন যানবাহন মুখ্য ভূমিকা পালন করে। এসব নিম্নমানের গাড়ি আমাদের পরিবেশকে ধুলিময় করে তোলে, যা মানবস্বাস্থের জন্যও অত্যন্ত ক্ষতিকর। তাছাড়া ফিটনেসবিহীন গাড়িগুলো নিয়ন্ত্রণ করা দুরূহ হওয়ায় মারাত্মক দুর্ঘটনায় প্রায় প্রতিদিনই মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে, নরওয়েভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনআইএলইউয়ের সহায়তায় সা¤প্রতিক এক গবেষণায় ঢাকা শহরের বায়ুর গুণগত মানের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, ঢাকা শহরের শুধু গাড়ির ধোঁয়া থেকে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ টন বস্তুকণা পিএম ২.৫ বাতাসে ছড়াচ্ছে। পরিবেশ সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি নানা উদ্যোগ আয়োজন রয়েছে। তবুও বাংলাদেশ বর্তমানে পরিবেশগত সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে সবচেয়ে তলানির দ্বিতীয় দেশ। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স¤প্রতি প্রকাশিত এই সূচকে বাংলাদেশ ১৭৯তম স্থানে রয়েছে। পরিবেশ সুস্বাস্থ্য সূচকে এদেশের অবস্থান ১৭৮ রাষ্ট্রের মধ্যে ১৭৮তম। অর্থাৎ সবচেয়ে তলানির দেশ। বায়ুমান সূচকে ১৮০ দেশের মধ্যে সবচেয়ে দ্বিতীয় খারাপ অবস্থা আমাদের বাংলাদেশের। অবস্থান ১৭৯তম। খাবার পানি ও স্যানিটেশনে ১২৮ দেশের মধ্যে ১২৮তম। কৃষি, বায়ুদূষণ ভারি ধাতু, প্রতিবেশ, বন ও সবুজ আচ্ছাদন, জলবায়ু ও জ্বালানি খাতে ও আমাদের অবস্থান পেছনের কাতারের দেশ। পরিবেশবিনাশী কার্যক্রম এখনই বন্ধ না করলে ২০৩০ সালে টেকসই উন্নয়নের অভিষ্ঠ অর্জনেও আমাদের পিছিয়ে পড়া দেশের কাতারেই থাকতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিতে বাংলাদেশ সংবিধান এর দ্বিতীয় ভাগে ১৮ক অনুচ্ছেদে বলা আছে, ‘রাষ্ট্র বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করিবেন এবং প্রাকৃতিক সম্পদ, জীব-বৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণির সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা বিধান করিবেন।’ বিপন্ন পরিবেশের প্রভাব থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদী বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। সব জাতীয় সম্পদের টেকসই উন্নয়ন এবং পরিবেশবান্ধব ব্যবহার বিষয়ে সমন্বিত সচেতনতার জন্য পরিবেশ সংক্রান্ত জ্ঞান ও আইন সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য উদ্যোগ গ্রহণ, গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত করে এবং এনজিওগুলোর মাধ্যমে জনগণের সচেতনতা তৈরির কাজ অব্যাহত রাখা। পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ীদের বিরূদ্ধে ত্বরিত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে পরিবেশ আদালত স্থাপন করা প্রয়োজন। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালায় যথাযথ প্রয়োগের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সমগ্র মানবসমাজের কর্তব্য নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য পুঁজিবাদকে উৎখাত করা। যদি না হয়, তাহলে অদূর ভবিষ্যতেই পুঁজিবাদ মানবজাতিকে ধ্বংস করবে। লেখক: উন্ন্য়ন ও পরিবেশ গবেষক এবং সহযোগী সদস্য, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি