বুধবার , ২ অক্টোবর, ২০১৯ at ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ
চলতি বোরো মৌসুমে ধানচাল ও গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় প্রায় ১৬ লাখ টন। নির্ধারিত সময় ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সংগ্রহ করা গেছে ১৪ লাখ ৭৭ হাজার টন বা প্রায় ৯২ শতাংশ। বাকি ১ লাখ ৭৬ হাজার টন সংগ্রহে তাই বাড়ানো হচ্ছে সময়। যদিও এ মুহূর্তে সরকারের খাদ্য ভান্ডারে রেকর্ড প্রায় ১৯ লাখ টন মজুদ রয়েছে। খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অন্যান্য মৌসুমের চেয়ে এবার সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের ক্ষেত্রে অগ্রগতি ভালো। গমের সংগ্রহ সময় ৩০ জুন শেষ হলেও ধান-চালের সময় শেষ হয়েছে ৩১ আগস্ট। চলতি বোরো সংগ্রহ মৌসুমের শেষ দিন পর্যন্ত ধান সংগ্রহ হয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার টন বা ৯২ শতাংশের বেশি। সেদ্ধ চাল সংগ্রহ হয়েছে ৯ লাখ ৩৫ হাজার টন বা লক্ষ্যমাত্রার ৯৩ দশমিক ৫২ শতাংশ। তবে আতপ চাল সংগ্রহ বেশ পিছিয়ে রয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার ৮৫ শতাংশ বা ১ লাখ ২৮ হাজার টন আতপ চাল সংগ্রহ করা গেছে। এছাড়া গম সংগ্রহ হয়েছে ৪৪ হাজার ১৫৮ টন, যা লক্ষ্যমাত্রার ৮৮ শতাংশ। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের এ প্রসঙ্গে বক্তব্য হলো, খাদ্যের রেকর্ড মজুদ থাকলেও চলতি বোরো মওসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে একটু পিছিয়ে রয়েছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর। তবে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সাত দিনের বিকল্প কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। এ সময় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির জন্য চাল উত্তোলন হবে। এ চাল যেন সরকারি খাদ্যগুদামে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য আগামী সাতদিন কোনো ধরনের চাল বাজার থেকে কেনা হবে না। শুধু ধান কেনা হবে। পত্রিকান্তরে এ খবর প্রকাশিত হয় গত ৩ সেপ্টেম্বর।
খাদ্য মন্ত্রণালয় এবছরও ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি। দেখা যাচ্ছে গণমাধ্যমে এমন খবর নিয়মিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কিন্তু কেন সরকার প্রতিবছর লক্ষ্য অনুযায়ী ধান-চাল সংগ্রহ করতে পারছে না তার কারণ অজানাই থেকে যাচ্ছে। প্রথমেই উদ্দেশ্যগত সমস্যার বিষয়টি সামনে চলে আসে। সরকারের ধান চাল সংগ্রহের প্রধান উদ্দেশ্য থাকে গুদামে মজুত বাড়ানো আপৎকালীন সমস্যা মেটানোই এর উদ্দেশ্য। আর পশ্চিমবঙ্গে ধান-চাল সংগ্রহ করা হয় কৃষককে সহায়তা করার জন্য। অর্থাৎ কৃষক সহায়ক কর্মসূচি। আমাদের সরকার ধান-চালের মজুদ বাড়াতে চাইলে অনেক পথ আছে। দরদামে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনতে পারে। সরকারের ধান-চাল সংগ্রহের দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যবস্থাপনা বদলাতে হবে। এখানে একটি কাজের পেছনে অনেকগুলো উদ্দেশ্য সাধনের চেষ্টা করা হয়। ফলে কোনটাই ঠিকমতো হয় না। একটি কাজের মধ্য দিয়ে একটি উদ্দেশ্য সাধন করা উচিত। তাছাড়া সরকার মধ্যস্বত্ব ভোগীদের কাছ থেকে অধিক হারে চাল কেনে। এ কার্যক্রম কৃষককে যৌক্তিক মূল্য প্রদানে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। আমরা প্রতিবেশী ভারতের পশ্চিমবঙ্গের অভিজ্ঞতাও কাজে লাগাতে পারি। তারা সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করে। সেখানে কোন মধ্যস্বত্বভোগী নেই। বাংলাদেশের খাদ্য অধিদপ্তরের বক্তব্য হলো, কৃষকের ধান ভিজা তা কেনা যায় না। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার ভিজা ধান কেনে এবং শুকানোর ব্যবস্থা করে। আমাদের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের পার্থক্য হলো, তারা কৃষকের কাছ থেকে কেনে আমরা কিনি মিল মালিকদের কাছ থেকে। আমাদের খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একটি দল পশ্চিমবঙ্গে গিয়ে সরজমিনে বিষয়টি দেখে আসতে পারে। আমাদের চাল কলের মালিকরা যদি কৃষকদের কাছ থেকে ভিজা ধান কিনে পরে তা শুকিয়ে নিতে পারেন, তাহলে সরকার কেন পারবে না। তার যুক্তিগ্রাহ্য ব্যাখ্যা সরকারের কাছ থেকে মিলছে না। ভারত সরকার কৃষককে আমাদের চেয়েও বেশি ভর্তুকি দেয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ভাবতে হবে গভীরভাবে।
No comments:
Post a Comment